রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার:
আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে-The teachers we need for the education we want: The global imperative to reverse the teacher shortage. অর্থাৎ আমরা যে শিক্ষা গ্রহণ করতে চাই তার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত শিক্ষক: শিক্ষকের স্বল্পতা কাটানো বৈশ্বিক দাবি।
শিক্ষকরা হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। যারা বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে সাহায্য করেন। সেই নিঃস্বার্থভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাওয়া শিক্ষকদের জন্যই আজকের দিনটি।
বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১.৩০টায় এ দিবস উদযাপন উপলক্ষে উত্তরণ মডেল কলেজ প্রাঙ্গনে এক আলোচনা সভায় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.কে.এম ফজলুল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরণ মডেল কলেজের সভাপতি, বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক শিক্ষাবিদ এম.এম. সিরাজুল ইসলাম, প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন উত্তরণ গৃহায়ন সমবায় সমিতির নির্বাহী সদস্য ফরিদ আহমদ।
অনুষ্ঠানে শুরুতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন তুহিনের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উত্তরণ মডেল কলেজের প্রভাষক রফিকুল ইসলাম, বক্তব্য রাখেন উত্তরণ মডেল কলেজের প্রভাষক রেবেকা সুলতানা ডেজি, গণিত বিষয়ের প্রভাষক মামুনর রশিদ, পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের প্রভাষক এডঃ আলাউদ্দিন রবিন, উত্তরণ মডেল স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক দুলাল কান্তি দে, উত্তরণ মডেল স্কুলের সহকারি শিক্ষক মোঃ জালাল, উত্তরণ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌলানা ফজলুল হক, উত্তরণ মডেল কলেজের বিএনসিসি বিভাগের ট্রেইনার কারমিনা ইয়াছমিন কারিশমা। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন উত্তরণ মডেল কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রিয়াজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উত্তরণ মডেল কলেজ, উত্তরণ মডেল স্কুল ও উত্তরণ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষাবিদ এম এম সিরাজুল ইসলাম জানান, আদর্শ জাতি গঠনের মহান কারিগর শিক্ষকগণ সর্বদা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার আলোকবর্তিকা হিসেবে নিবেদিত প্রাণ। শিক্ষকরা সমাজের বাতিঘর এবং সুনাগরিক গড়ার প্রধান প্রকৌশলী। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জাতীয়ভাবে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সকল নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক সদস্য ফরিদ আহমদ বলেন, শিক্ষার মূল চালিকা শক্তি হলো শিক্ষক। শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। শিক্ষকের অনেক দায়বদ্ধতা রয়েছে। শুধু পুঁথিগত বিদ্যা বিতরণ নয়, একজন শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তার আচার-আচরণের গুণগত পরিবর্তন সাধন, নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি স্থাপন করে দেয়াও শিক্ষকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রফেসর এ কে এম ফজলুল করিম চৌধুরী জানান, শিক্ষক তিনি, যিনি অন্যের সন্তানের সাফল্যে নিজেকে আনন্দিত ও গর্বিত মনে করেন।প্রকৃত মহান শিক্ষকের শিক্ষায় আলোকিত হয়ে আমরা সমাজকে আলোকিত করি।শিক্ষক চৌম্বকের ন্যায় অর্থাৎ চৌম্বকের সংস্পর্শে এসে লোহা চৌম্বক দ্বারা আবেশিত হয়(Magnetic induction) এবং চৌম্বকত্ব লাভ করে। যে সকল সরল মনের আলোকিত শিক্ষক হতে আমরা শিক্ষা লাভ করে সমাজের এই পর্যায়ে উপনিত হয়েছি আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তাদের জানাচ্ছি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিনম্র শ্রদ্ধা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। শিক্ষককে হতে হবে শিক্ষার্থীর প্রতি বন্ধুসুলভ, ন্যায়পরায়ণ, কর্মতৎপর ও সরল পথ প্রদর্শক,যাকে অনুসরন করে শিক্ষার্থীরা একটি সঠিক সৎ পথের সন্ধান পেতে পারে। যে সমাজে শিক্ষক শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্পর্ক যত গভীর শ্রদ্ধার ও ভালোবাসার অনন্য মর্যাদায় উপনিত হয় সে সমাজ তত বেশি আলোকিত হয়। আমাদের যে সকল শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক আমাদের ছেড়ে পরলোক গমন করেছে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং যারা আমাদের মাঝে আছেন তাদের রোগমুক্ত দীর্ঘায়ু প্রত্যাশা করছি। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সকল শিক্ষার্থীদের অন্তরে শিক্ষকদের প্রতি গভীর আন্তরিকতা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সৃষ্টি হোক এবং তারা সুশিক্ষাই শিক্ষিত হয়ে আলোকিত কল্যাণকামী মানুষ হয়ে দেশ মাতৃকার সেবক হিসেবে গড়ে উঠে দেশকে শান্তির জনপদে পরিণত করুক।মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে এই প্রার্থনা রইল।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক হলো সমাজ গঠনের মূল কারিগর। শিক্ষক নবীন প্রজন্মকে জ্ঞান বিতরণ করেন, স্বপ্ন দেখান, তাদের মধ্যে বিশ্বাসের বীজ বপন করেন। যার ফলে নবীন প্রজন্ম সুশিক্ষিত, দক্ষ, যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। আমরা যদি সভ্যতার দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই প্রতিটি সভ্যতা গড়ার পিছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন শিক্ষকগণ। সরকার উচ্চ শিক্ষাসহ গবেষণা খাতকে সমৃদ্ধ করতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে আদর্শ ও সৃজনশীল নাগরিক গড়ার জন্য দক্ষ ও সৃষ্টিশীল শিক্ষকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই শিক্ষার সকল পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন।
আলোচনা সভা শেষে উত্তরণ মডেল কলেজ, উত্তরণ মডেল স্কুল ও উত্তরণ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমন্বয়ে র্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।