শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকাসক্ত ভাসুরের ছুরিকাঘাতে গৃহবধু খুন! চকরিয়ার খুটাখালী কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন-সালাহউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশন-এর উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মীরসরাইয়ে বিএনপি’র দুই পক্ষের সংঘর্ষে পথচারী নিহত শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে পোস্ট, এসিল্যান্ড প্রত্যাহার কক্সবাজারে সংরক্ষিত বনের পাশে বালু মহাল ইজারা না দিতে আইনি নোটিশ। মহেশখালীতে ফ্রি ফায়ার গেইম খেলতে না দেওয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে এক শিশু’র আত্মহত্যা! রামু সমিতির ইফতার ও শহীদ শিহাব কবির নাহিদ স্বরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত  সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদক নির্মুল সম্ভব -বাইশারীতে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মত বিনিময় সভায় পুলিশ সুপার কাওছার

রোহিঙ্গাদের রেশন অর্ধেক কমানোর হুমকিতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)

রিয়াজ উদ্দিন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০২৫
  • ৪৩ বার পঠিত

রিয়াজ উদ্দিন:

চলতি মাসের মধ্যে ১৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা জোগাড় করতে না পারলে ১ এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য খাবারের বরাদ্দ অর্ধেক কমানো হতে পারে। এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।

বর্তমানে প্রত্যেক রোহিঙ্গা প্রতি মাসে মাথাপিছু সাড়ে ১২ ডলারের খাদ্য সহায়তা পেয়ে থাকেন, যা কমে দাঁড়াবে ছয় ডলারে। ফলে, প্রতিদিনের খাবারের জন্য বরাদ্দ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬ টাকা থেকে কমে হবে মাত্র আট টাকা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বরাদ্দ কমিয়ে আনা হলে কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা তীব্র খাদ্য সংকট ও অপুষ্টির মুখে পড়বে।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “রোহিঙ্গারা এখন যা পাচ্ছে, সেটাই যথেষ্ট নয়। নতুন করে বরাদ্দ কমে গেলে পরিণাম হবে অকল্পনীয়।”

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, এই সংকটের অন্যতম কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্বব্যাপী USAID এর অর্থায়ন বাতিল। যদিও জরুরি খাদ্য সহায়তাকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল, তবে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের অন্যতম প্রধান দাতা হওয়ায় এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ছে।

ডব্লিউএফপি তাদের পাঠানো চিঠিতে জানিয়েছে, তারা খাদ্য সহায়তা আগের মতো রাখতে তহবিল জোগাড়ের চেষ্টা করেছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় দাতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ডব্লিউএফপি স্বীকার করেছে যে, রোহিঙ্গারা পুরোপুরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। বরাদ্দ কমে গেলে তারা মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাবে এবং শিবিরে অস্থিরতা বেড়ে যেতে পারে।

বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। তাদের বেশিরভাগই ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে পালিয়ে এসেছে।

২০২৩ সালেও মাসিক রেশন কমিয়ে আট ডলার করা হয়েছিল, যার ফলে ক্ষুধা ও অপুষ্টির মাত্রা বেড়ে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আগের বরাদ্দ ফিরিয়ে আনতে হয়।

ডব্লিউএফপি’র বাংলাদেশ মুখপাত্র কুন লি জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতি মাসে ১৫ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হয়। তবে এবার সেই তহবিল জোগাড় না হওয়ায় রেশন কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারে এক মানবিক প্রকল্পে কাজ করা এনজিওকর্মী জসিম উদ্দীন বলেন, “রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার প্রায় ৫০ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এই তহবিল কমানোর অর্থ রোহিঙ্গাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসা, যা স্থানীয় বাংলাদেশি জনগণের জীবন-জীবিকাতেও প্রভাব ফেলবে।”

তিনি আরও বলেন, “চাকরির সুযোগ না থাকায় অনেক রোহিঙ্গা শিবির থেকে বের হয়ে কাজ খোঁজেন। অনেকে মাদক ও মানব পাচারের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। খাদ্য সংকট তীব্র হলে রোহিঙ্গারা শিবিরের বাইরে গিয়ে স্থানীয়দের জীবিকার উৎসের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়বে।”

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত দ্রুত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা, যাতে তহবিল সংকট সমাধানের পথ বের করা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Bangla Webs