রিয়াজ উদ্দিন:
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে মাদকাসক্ত ভাসুরের ছুরিকাঘাতে এক গৃহবধু খুন হয়েছে।পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সুত্র জানায়, ২এপ্রিল (বুধবার) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পূর্ব মহেশখালীয়াপাড়া এলাকায় মীর কাশেমের স্ত্রী জান্নাত আরা (২৫) আপন ভাসুরের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। এতে জান্নাত আরা রক্তাক্ত অবস্থায় উঠানে পড়ে থাকলে। শোর চিৎকারে পাড়া প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। পরে তাদের সহায়তায় গুরুতর আহত গৃহবধুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পথিমধ্যে ওই গৃহবধুর মারা যান। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র রাশেদুল আলম
জানান,সকালে বাড়ীর সামনের আঙ্গিনায় (উঠানে) গৃহবধু জান্নাত আরা কাপড় শুকাতে যান,এতে ভাসুর বাঁধা দেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ভাসুর স্থানীয় নাগু মিয়ার ছেলে ইব্রাহীম ওরফে লুলাইয়্যা উক্ত গৃহবধুকে ছুরিকাঘাত করেন। তিনি আরো বলেন, ঘাতক লুলাইয়্যা একজন মাদকসেবী। মাদক সেবনের কারণে পরিবারের সাথে ইব্রাহীমের দুরত্ব সৃষ্টি হয়। স্বামীর নির্মম নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী তাকে (ঘাতক ইব্রাহীমকে) রেখে বাপের বাড়ীতে চলে গেছেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকটি হলে স্থানীয়ভাবে আপোষ মীমাংসা করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশেরএসআই কাজল দাশের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।পরিদর্শনকারী পুলিশের এসআই কাজল সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কক্সবাজার মর্গে প্রেরণ করেছেন।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মো: মোজাহারুল ইসলাম ভাসুর কর্তৃক গৃহবধু খুনের বিষয়টি সত্যতা জানিয়ে বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গৃহবধু খুনের ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে গৃহবধু খুনের ঘটনায় জড়িত ভাসুরের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানিয়েছেন তারই গর্ভধারণী মা হামিদা বেগম।