নুরুল আবছার,টেকনাফ:
কক্সবাজার টেকনাফের হারিয়াখালী এলাকা থেকে ১০ কোটি টাকা মূল্যমানের ০২ কেজি অবৈধ মাদক ক্রিস্টালমেথ (আইস) এর চালান উদ্ধারসহ এক মাদক ব্যবসায়ী র্যাব-১৫ কর্তৃক গ্রেফতার।
বর্তমান সময়ে সর্বনেশা মাদকের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো ক্রিস্টাল মেথ বা আইস। ক্রিস্টালমেথ বা আইস নামক এই মাদকের নেশার প্রচলন বৃদ্ধি পাওয়ায় মাদক কারবারীরা পার্শ্ববর্তী দেশ হতে বিভিন্ন কৌশলে আইসের চালান নিয়ে আসছে। র্যাব এই ধরণের মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে নজরদারী বৃদ্ধি করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সূত্রে র্যাব-১৫ এর আভিযানিক দল জানতে পারে,ক্রিস্টালমেথ নামক মাদক কারবারি চক্র পার্শ্ববর্তী দেশ হতে মাদকের চালান নিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালী এলাকায় অবস্থান করছে। এ প্রেক্ষিতে র্যাব বর্ণিত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে এবং শনিবার (০২ ডিসেম্বর) সকাল অনুমান ০৯.৪০ ঘটিকার সময় র্যাব-১৫, সিপিসি-২ হোয়াইক্যং ক্যাম্পের আভিযানিক দল একটি মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় আভিযানিক দল উক্ত এলাকার মসজিদুল ওয়াহাব এর পূর্বপাশে জনৈক আমির হোসাইনের বসত ঘরের সামনে উপস্থিত হলে র্যাবের আভিযানিক দলের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে কক্সবাজার কেন্দ্রিক আইসের চালানটির মূলহোতা আহমদ হোছন (২১), পিতা-মৃত আমির হোছাইন, সাং-হারিয়াখালী, ০৩নং ওয়ার্ড, সাবরাং ইউনিয়ন, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার’কে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে উপস্থিত স্বাক্ষীদের সম্মুখে গ্রেফতারকৃত আহমদ হোছনকে জিজ্ঞাসাবাদে তার বসতঘরের ভিতর শয়ন কক্ষের খাটের নিচে ক্রিস্টালমেথ বা আইস রয়েছে বলে স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিধি মোতাবেক বসতঘর তল্লাশী করে বিশেষ কায়দায় লুকায়িত অবস্থায় সর্বমোট ০২ কেজি ক্রিস্টালমেথ (আইস) উদ্ধার করা হয়। কথিত আছে উদ্ধারকৃত ০২ কেজি ক্রিস্টালমেথ বা আইসের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি পার্শ্ববর্তী দেশ হতে মাদক চোরাচালানের সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে। সে টেকনাফ এলাকার একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী এবং দীর্ঘ দিন যাবৎ মাদক চোরাচালানের সাথে জড়িত। সে পার্শ্ববর্তী দেশের মাদক চোরাচালান চক্রের যোগসাজসে দেশে অবৈধ মাদক আইস চোরাকারবারির সাথে জড়িত। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ী পার্শ্ববর্তী দেশের মাদক সিন্ডিকেটের সাথে সার্বিক সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে আইসের চালান বাংলাদেশে নিয়ে আসে এবং এই সকল মাদকের চালান বিভিন্ন উপায়ে এজেন্টদের মাধ্যমে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয় বলে জানা যায়।
উদ্ধারকৃত মাদকসহ গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণার্থে কক্সবাজার টেকনাফ থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়েছে।