বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকাসক্ত ভাসুরের ছুরিকাঘাতে গৃহবধু খুন! চকরিয়ার খুটাখালী কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন-সালাহউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশন-এর উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মীরসরাইয়ে বিএনপি’র দুই পক্ষের সংঘর্ষে পথচারী নিহত শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে পোস্ট, এসিল্যান্ড প্রত্যাহার কক্সবাজারে সংরক্ষিত বনের পাশে বালু মহাল ইজারা না দিতে আইনি নোটিশ। মহেশখালীতে ফ্রি ফায়ার গেইম খেলতে না দেওয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে এক শিশু’র আত্মহত্যা! রামু সমিতির ইফতার ও শহীদ শিহাব কবির নাহিদ স্বরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত  সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদক নির্মুল সম্ভব -বাইশারীতে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মত বিনিময় সভায় পুলিশ সুপার কাওছার

কক্সবাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ রাডার স্টেশনটি অকেজো হয়ে আছে দীর্ঘকাল, চালু হতে পারে আগামী বছর !

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৮ মার্চ, ২০২৫
  • ৫৬ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক,কক্সবাজার:

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে ঘনঘন ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে। গত কয়েকবছর ধরে এই ঘূর্ণিঝড়ের পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড় ছাড়াও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে কক্সবাজারে। আশঙ্কা আছে চলতি বছরেও একাধিক ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে উপকূলে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এমন সময়ে আবহাওয়ার বার্তা কোথায় পায় আবহাওয়া অধিদপ্তর? কারণ গত ২০২৩ সাল থেকে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে কক্সবাজারের একমাত্র রাডার স্টেশন। বার বার মেরামতের কথা বলা হলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি স্টেশনটি। ফলে আবহাওয়ার সঠিক বার্তা পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয় হাওয়া দপ্তরকে, যা ভোগান্তিতে ফেলে উপকূলের মানুষকে। মূলত বৃষ্টি এবং বাতাস পর্যবেক্ষণ করতে রাডার ব্যবহার করেন আবহাওয়াবিদরা। এটি স্বল্পমেয়াদী আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং বজ্রঝড়, টর্নেডো, শীতকালীন ঝড় ও বৃষ্টিপাতের ধরন পর্যবেক্ষণের জন্য প্রধান যন্ত্র। স্টেশনটি বাংলাদেশের আবহাওয়ার অবস্থান ও পূর্বাভাস দেয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আবহাওয়ার আগাম সতর্কতা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ রাডারের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ভি-স্যাটের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে আবহাওয়া দপ্তর জানতে পারে। তবে রাডার স্টেশনটি নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় তথ্য পাওয়ার জন্য বিকল্প হিসেবে যেসব সোর্সের উপর আবহাওয়া দপ্তরকে নির্ভর হতে হয় তা জানান কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান। তিনি বলেন,রাডারটি অচল থাকায় আবহাওয়ার সার্বিক তথ্যাদি যথাযথ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও দেশের অন্য রাডার স্টেশনগুলো সচল থাকায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। অন্য রাডার থেকে প্রাপ্ত তথ্যর সাথে কক্সবাজারে চলমান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে আবহাওয়ার বর্তমান অবস্থা নির্ণয় করা হয়।

কক্সবাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ রাডার স্টেশনটি স্থাপন করা হয় ১৯৭০ সালে। সেই সময়ে জাইকার অনুদানে পটুয়াখালীর খেপুপাড়া এবং কক্সবাজারে বসানো হয় দুটি রাডার। যা বাংলাদেশে প্রথম রাডার স্টেশন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ২২ এপ্রিল জাপান সরকারের অর্থায়নে রাডার সিস্টেমের উন্নয়ন করা হয়। যে রাডারটির মেয়াদকাল ১০ থেকে ১২ বছর ছিলো। কিন্তু সেটি ব্যবহৃত হয় গত ১৮ বছর। সর্বশেষ ২০২৩ সালে পুরোপুরি অচল হয়ে যায় কক্সবাজারের স্টেশনটি।

তবে সম্প্রতি রাডার স্টেশন নিয়ে এমন দুর্যোগপূর্ণ খবরে আশার বাণী শুনিয়েছেন সরকারের প্রতিরক্ষা সচিব। বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন বলেন, কক্সবাজারসহ সারাদেশে নতুনভাবে তিনটি রাডার সিস্টেম চালু করা হবে, যা তিনি আশা করছেন ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পুরোপুরি চালু করতে পারবেন। পুরনো রাডার স্টেশনটি মেরামত করতে না পারার প্রসঙ্গে সচিব বলেন, জাপান সরকারের অর্থায়নে তৈরি হওয়া রাডার স্টেশনের সরঞ্জামগুলো বর্তমানে বাজারে পাওয়া না যাওয়ায় সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না, যার কারণে অবকাঠামো ঠিক রেখে নতুন সিস্টেমে রাডার স্থাপন করতে হচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই রাডার সিস্টেমের মেয়াদকাল ৮ থেকে ১০ বছর হবে বলে দাবী তাঁর।

সমুদ্র তীরবর্তী কক্সবাজারের মানুষ দুর্যোগ মোকাবেলা করতে গিয়ে প্রতিবছর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সঠিকভাবে আগাম বার্তা পেয়ে নিজেদের নিরাপদ করতে রাডার স্টেশনটি দ্রুত চালু করার দাবী উপকূলের মানুষের।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Bangla Webs