মঈন উদ্দিন মুরাদ,কক্সবাজার:
বাংলাদেশের ভূমি অফিসে সেবা প্রার্থীদের হয়রানি,দুর্নীতি, জমি জালিয়াতিসহ ভূমি সংক্রান্ত অপরাধ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০২১ সাল থেকে অনলাইন ভূমি সেবা চালু করেন বাংলাদেশ সরকার, প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবা কয়েকটি জেলার মধ্যে চালু হলেও পরবর্তীতে সারাদেশে ডিজিটাইজেশন ভূমি সেবার আওতায় আনতে সক্ষম হয় সরকার।ডিজিটাল যুগের এই সেবা পেয়ে সন্তুষ্ট ছিল সেবাপ্রার্থীরা,ফলে ঘরে বসে জমির মালিকাগণ তাদের ভূমি রাজস্ব কর প্রদান,খতিয়ান উত্তোলন ও জমিজমা বিষয়ক সকল তথ্য-উপাত্তের সেবা গ্রহণ করত সেবাপ্রার্থীরা।তবে সরকারের সেই গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ রয়েছে কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ও চৌফলদন্ডী ইউনিয়নে ফলে ভূমি অফিসে সেবা প্রার্থীরা তাদের কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে বঞ্চিত হচ্ছে সরকারের অন্যতম ভূমি সেবা প্রদানের এই মাধ্যম থেকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিনিয়ত খুরুশকুল ভূমি অফিসে সেবা প্রার্থীরা গিয়ে তাদের কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। তাদেরই একজন জনাব মোঃ বাশার কথা হয় তার সাথে তিনি জানান,অসুস্থ পিতার চিকিৎসা করার জন্য তার পৈত্রিক ১৫ শতক জমি বিক্রি করার জন্য সিদ্বান্ত নেন তিনি।পরবর্তীতে বিক্রির জন্য খাজনা প্রদান করতে গেলে খুরুশকুলে কর্মরত ভূমি কর্মকর্কা জানান সার্ভার জটিলতার কারনে বর্তমানে অনলাইন ভূমিসেবার কিছু ক্ষেত্র বন্ধ রয়েছে। ফলে অনলাইন খাজনা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।যার ফলে এখন বাবার চিকিৎসা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।এমনি হতাশার চিত্র খুরুশকুলে ভূমি সেবা প্রত্যাশীদের।তবে অফিস সূত্রে জানা গেছে ভূমি অনলাইন সেবা এখনও চালু রয়েছে তবে ভূমি কর প্রদানের যে পদ্বতি রয়েছে সেখানে কিছুটা জটিলতা থাকার কারণে সেবা প্রদানে বিঘ্নিত হচ্ছে।কর্তৃপক্ষ আরও জানান, তারা এসব সমস্যা সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবর বার্তা পাঠিয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষ উক্ত সমস্যা থেকে উত্তোরণের জন্য কাজ করছেন।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার(ভূমি) সদর কক্সবাজার শারমিন সুলতানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,ভূমি উন্নয়ন সেবা অর্থাৎ ভূমি কর প্রদানের যে পদ্বতি রয়েছে সেখানে কিছু নতুন সংস্করণ করার ফলে সেবা প্রার্থীরা তাদের কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, এটি শুধুমাত্র কক্সবাজারে নয় সারাদেশে এ সংস্করণের কাজ চলছে,তবে কক্সবাজার সদরের পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতে সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে বাকি দুই ইউনিয়ন খুরুশকুল ও চৌফলদন্ডী ইউনিয়নে এই সেবা আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।