প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৫, ২০২৫, ১২:৪৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২১, ২০২৪, ১০:২৯ পি.এম
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর পরিদর্শনে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন

এম.এ.কে.রানা, মহেশখালী:
দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে।গভীর সমুদ্রবন্দরের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখন দৃশ্যমান। বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে ১ হাজার ৩১ একর জায়গার নির্মাণ করা হচ্ছে এই বন্দরটি।
মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ হলে ৮ হাজার ২০০ টিইইউএস ক্ষমতাসম্পন্ন কন্টেনার বহনকারী জাহাজ নোঙ্গর করতে পারবে। ফলে পণ্য নিয়ে সিঙ্গাপুর, কলম্বো আর মালয়েশিয়ার বন্দরে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের আর অপেক্ষায় থাকতে হবে না। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় একটি পণ্যের চালান পাঠাতে সময় লাগে ৪৫ দিন। মাতারবাড়ি বন্দর চালু হলে মাত্র ২৩ দিনেই সরাসরি নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
২১ অক্টোবর (সোমবার) সকাল সাড়ে ১০টায় মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর পরিদর্শন করতে আসেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ড. এম সাখাওয়াত হোসন। পরে সকাল ১১টায় কোলপাওয়ারের প্রশাসনিক সম্মেলন কক্ষে জাইকার প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও সওজসহ বিভিন্ন উন্ননয় প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় জাইকার প্রতিনিধি মি: সাতো ২০২৯ সালের মধ্যে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দের ১ম পেইজের কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন- যথা সময়ে মধ্যে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের কাজ শেষ করতে বলেন।
এছাড়াও আলোচনা সভায় মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের উন্নয়ন কাজ ও পরিকল্পনা সম্পর্কে ভিডিও প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রতিবেদন দেখে যথা সময়ে কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবগত করেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। পরে নৌবাহিনীর বোটের মাধ্যমে তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প, এসপিএম প্রকল্প, মাতারবাড়ী চ্যানেল ও ব্রেক ওয়াটার প্রকল্প পরিদর্শন করেন তিনি।
এছাড়া এ বন্দরের অনেক কাজ এগিয়ে নিয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পটি। বন্দরের জন্য যে চ্যানেল তৈরি হয়েছে সেটি ২৫০ মিটার চওড়া, ১৮ দশমিক ৫ মিটার গভীর এবং ১৪ দশমিক ৩ মিটার দীর্ঘ। সাগর থেকে উপকূল পর্যন্ত পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বাঁধ। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর এলাকায় চ্যানেলের পানি পুরো নীল। দেশের আর কোনো বন্দরে এমন নীল পানি নেই। নীল পানি থাকা মানে নৌপথের বড় অংশে পলি জমার আশঙ্কা কম বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
প্রকল্প সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে সমুদ্রপথে মাতারবাড়ির দূরত্ব ৩৪ নটিক্যাল মাইল, পায়রা বন্দর থেকে মাতারবাড়ির দূরত্ব ১৯০ নটিক্যাল মাইল ও মোংলাবন্দর থেকে গভীর সমুদ্রবন্দরের দূরত্ব ২৪০ নটিক্যাল মাইল। তাই মাতারবাড়িতে মাদার ভেসেল (বৃহদাকার কন্টেনার জাহাজ) থেকে পণ্য খালাস করে অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক ও সমুদ্রপথে অন্যান্য বন্দরে পরিবহন করা যাবে। পুরোদমে মাতারবাড়ি বন্দর চালু হলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পরিসংখ্যান বলছে গভীর সমুদ্রবন্দর জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে ২-৩ শতাংশ অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
Copyright © 2025 Dainik Rupali Saikat. All rights reserved.