রিয়াজ উদ্দিন:
কক্সবাজার শহরের বৃহত্তর রুমালিয়ারছড়া দোকান মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি নুরুল আজিমের উপর এলাকার কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ছিনতানকারী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া যায়। এই হামলা ও লুটপাটের প্রতিবাদে এলাকার সুশীল সমাজ, শহরের বিভিন্ন দোকান মালিক সমিতির সদস্য ও এলাকার লোকজন সহ সকলের উপস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
৩০ আগস্ট (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৭টায় কক্সবাজার টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে রুমালিয়ারছড়া দোকান মালিক সমিতির সভাপতি করিম উল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ এনামুল হকের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতির আহ্বায়ক আবু জাফর ও সদস্যসচিব মৌলনা আবদুল গফুর , কক্সবাজার জেলার প্রথম ব্যারিস্টার আবুল আলা ছিদ্দিকী, কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতির যুগ্ন-আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোস্তফা, সদস্য নুরুল আমিন, শফিকুল ইসলাম, মাওলানা ফারহানুল ইসলাম, আলী আহমদ, রুমালিয়ারছড়া দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল , সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, কবরস্থান রোড সমাজ কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নেছার আহমদ ভূইয়া, সবুজবাগ সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাশেদুল মোস্তফা, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুল আলম, বৈষম্যবিরোধেী ছাত্র আন্দোলনের কারা নির্যাতিত অন্যতম সমন্বয়ক মঈনুর রশিদ, রুমালিয়ারছড়া এলাকার সকল দোকানদার, ছাত্র, এলাকার লোকজন প্রমুখ।
এসময় সমাবেশে উপস্থিত কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতির আহ্বায়ক আবু জাফর বলেন, এই হামলা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এভাবে যদি পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরে প্রতিনিয়ত ছিনতাই, হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটলে, কোন ব্যবসায়ী নিরাপদ নয় বলে আমি মনে করছি। যে বা যারা হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে তাদের প্রতি আমি কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ধিক্কার জানাই এবং প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রইল অনতিবিলম্বে এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হউক। তাছাড়া আমার ব্যবসায়ী ভাইদের প্রতি অনুরোধ রইল পরবর্তীতে যদি এই চিহ্নিত সন্ত্রাসী বা অন্য কেউ চাদাঁবাজি করতে আসলে আমাদেরকে খবর দিবেন এবং সাথে সাথেই পুলিশ প্রশাসন, র্যাব-১৫, সেনাবাহিনীকে অবগত করবেন। আশা করি কিছু একটা সুফল পাবেন। প্রতিটি দোকানে একটি করে লাঠি ও বাঁশি রাখবেন যাতে এরকম ছিনতাইকারীদের দ্রুত প্রতিহত করতে পারেন।
অন্যদিকে কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতির সদস্যসচিব মৌলানা আবদুল গফুর বলেন, গত ২৮শে আগস্ট রাত ১০টার দিকে রুমালিয়ারছড়া দোকান মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি নুরুল আজিম ভাইয়ের উপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে টেকনাইফ্ফ্যা পাহাড়ের বসবাসরত কিছু রোহিঙ্গা। ঘটনাটি শোনামাত্রই আমি আজিম ভাইকে ফোন দিয়ে ঘটনাস্থলে আসার চেষ্টার করলে তিনি না আসতে বলে। পরের দিন তার সাথে সাক্ষাতকালে তিনি বিস্তারিত বিষয় জানান। আজকে আমরা নুরুল আজিম ভাইয়ের উপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সমাবেশের আয়োজন করেছি। এতে করে সকল ব্যবসায়ীরা সজাগ হয়েছে কিভাবে এইরকম টুকাই, ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসীদের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করতে হয়। তাছাড়া আমরা ৩১শে আগস্ট শনিবার কক্সবাজার সদর মডেল থানা, র্যাব-১৫ ও সেনাবাহিনীর কাছে যাব, যাতে করে সন্ত্রাসীদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়। ইতি মধ্যে আমরা প্রশাসনদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করেছি , তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন এবং সন্ত্রাসীদের নামের তালিকা জমা দিতে বলেছেন। আশা করি এই ঘটনায় আমরা সুষ্ঠু বিচার পাবো ইনশাআল্লাহ।
ভুক্তভোগী নুরুল আজিম ঐ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে এইরকম ঘটনার কারো উপর না ঘটে সে বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরো জানান, গত ২৮শে আগস্ট রাত ১০টার দিকে আমি যখন দোকানে অবস্থান করি, তখন টেকনাইফ্ফ্যা পাহাড়ের বসবাসরত ৬জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আমাকে দেশীয় অস্ত্র, চুরি ক্রীস, দা ,ছুরি ইত্যাদি দিয়ে মারার চেষ্টা করলে আমাকে পাশের দোকানদাররা রক্ষা করে। এতে আমি জানে বেঁচে যায়। পরবর্তীতে রাতে সাড়ে ১২টার দিকে ঐ সন্ত্রাসীরা ৩০-৩৫ জন দলবল নিয়ে আমাকে মারতে আসলে আমি তৎপূর্বেই দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে আসি। এতে তারা আমাকে মারতে পারেনি। তারা রোহিঙ্গা হয়েও যদি এভাবে আমাদের (সাধারণ ব্যবসায়ীদের) উপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিলে,তাহলে আমরা নিরাপত্তার সাথে দোকানের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারব বলে মনে হয় না। প্রশাসন ভাইদের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এর সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
এছাড়া প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলার প্রথম ব্যারিস্টার আবুল আলা ছিদ্দিকী, কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতির যুগ্ন-আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোস্তফা, সদস্য নুরুল আমিন, শফিকুল ইসলাম, মাওলানা ফারহানুল ইসলাম, আলী আহমদ, রুমালিয়ারছড়া দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল , সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, কবরস্থান রোড সমাজ কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নেছার আহমদ ভূইয়া, সবুজবাগ সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাশেদুল মোস্তফা, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুল আলম, বৈষম্যবিরোধেী ছাত্র আন্দোলনের কারা নির্যাতিত অন্যতম সমন্বয়ক মঈনুর রশিদ সহ প্রমুখ।
সমাবেশের শেষান্তে, প্রশাসন ভাইদের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এর ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়ে অনুষ্ঠানের সভাপতি সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।