মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ০২:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৪৫ কোটি টাকার রাস্তা আড়াই বছরেও শেষ হয়নি ৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার খুটাখালীতে স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সের সীমানা-প্রাচীরের একাংশ ভেঙ্গে পড়েঃআরো ভাঙ্গার সম্ভাবনা ১৯ উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত! মাতারবাড়ীর “তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা”সুপার নিয়ম মানছেনা,রশিদ না কেটে টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ! ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা কুতুবদিয়ায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ৬ শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার পরিচিতি সভা সম্পন্ন ঈদগাঁওতে ফার্নিচার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড -কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ২ শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক লাপাত্তা ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযানে ছিনতাইকারী সহ আটক-৮

মানিকপুরের দই,গেল কয়!কারণ কি?

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ অক্টোবর, ২০২১
  • ২২০ বার পঠিত

জিয়াউল হক জিয়া

কন-কন শীতে যখন গাঁ-কাপঁতে শুরু হয়।ঠিক তখনই কথা বলার ফাঁকে মানুষের মূখ দিয়ে বের হয় ধোঁয়া আর ধোঁয়া।সবই আল্লাহর নিয়ামত,অসীম কেরামতি।এমন শীতে গ্রামাঞ্চলের প্রত্যেক ঘরে-ঘরে চলে হরেক রকমের পিঠা তৈরীর উৎসব।এমতাবস্থায় কিন্তু ভাপা পিঠার তৈরীর প্রচলনটা খুববেশী থাকে। বিশেষ করে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাস্হ বসবাসরত লোকজন খুঁজে মানিকপুরের গরু ও মহিষের দই ভর্তি হাড়িঁ।হাড়িঁ ভর্তি দইগুলো খেতে খুবই সুস্বাদু।এই দই বাড়ীতে নিয়ে পিয়ালাতে ঢেলে সামান্য গুড বা চিনি মিশিয়ে গুড়িয়ে তরল করে,যদি ভাপাপিঠা ছুপিয়ে-ছুপিয়ে খাই।স্বাদে পুরো শরীরটা শীতল হয়ে উঠে।এছাড়াও হাড়িঁতে বসানো দই দিয়ে যদি চিকন চালের রান্না করা ভাত মিশিয়ে খাই।তখন মনে হয় এমন প্রাণ জুড়ানো অনন্য স্বাদ আর কোথায় পায়। এ দই খেলে সারা জীবন কেউ ভুলতে পারবে না স্বাদের কথা।শীতের এমন সময় যখন পূর্ব দিক থেকে সূর্য্যদয় শুরু হয় লালচে রঙের ছটকে।ঠিক তখন কারো-কারো উঠানের এক কোণায় জ্বালানো হয় খড়কুড়ার আগুন।বাড়ীর লোকজন সহ আাশপাশের লোকজন আগুন পোহাতে চলে আসে।এসময় জুড়ো হওয়া লোকজন একে অপরকে বলতে শুরু করে পুষ্টিকর সুস্বাদু খাবার মানিকপুরের দইয়ের কথা।আমি শুনেছি শীত আসলে চকরিয়ার হাট বাজারে গিয়ে মুরব্বিরা খাটিঁ মানিকপুরের দই কিনে আনতো। পরে বাড়ীর সব সদস্যরা পিঠা কিংবা ভাতে দই মিশিয়ে খেত।তখন দই খাওয়ার জন্য লুকোচুরি জীদ বাড়ীর সব সদস্যদের থাকতো।আর এখন মানিকপুরের বনাঞ্চল,প্যারাবন সব উজাড় হয়ে কেবল দখল বাজদের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে।ফলে খোলা মেলা পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় গৃহপালিত গবাদিপশু লালন-পালনের হার আশিভাগ কমে গেছে।ফলে প্রতি বছর বসন্তের আগন্তুক পাখি কোকিলের মিষ্টি সুরের ডাক বাতায়নে প্রবেশ করলেই,তখনই মনে পড়ে মানিকপুরের দইয়ের কথা।কিন্তু মনের প্রিয় খাবার হাড়িঁভর্তি দই যখন বাজারে খুজঁতে যায়,তখন কেউ পায় আর কেউ না পেয়ে সাময়িক হতাশা হয়ে চলে আসে বাড়ীতে। পরিবারের মুরব্বিরা বলে থাকে মানিকপুরের দই যেখান পাবেন,নিয়ে আসে।আমার মেয়েটা শাশুড় বাড়ীতে খেতে পারছে কি?পারছেনা জানিনা।মুরব্বি মা-বাবার এমন আকুতি এখন কয়জনই বা শুনে।যখন ছোট ছিলাম,তখন দাদা-দাদি ও নান-নানির মূখে যেমন এই কথা শুনতাম।তেমনি শীতের মৌসুমে তাদের হাতে দইভর্তি হাড়িঁও দেখতে পেতাম।অ-হ্যাঁ এতক্ষণ বলছিলাম চকরিয়া উপজেলার মানিকপুরের দইয়ের স্মৃতি কথা।যা ক্রমান্বয়ে আমাদের সমাজ থেকে দিন-দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।যার কারণে দইয়ের চাহিদা বাড়লেও,পাওয়া যায় খুবই কম।তাই বলি মানিকপুরের দই,গেল কয়!

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Bangla Webs