চকরিয়া প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন,জামায়াত নেতা এবং গণ-অভ্যুত্থানের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতৃত্বকারী নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা তথ্য লাল কার্ড ও মলিন মূখোশ নামক আইডিতে পোস্ট করে প্রথমে বিভ্রান্তি ছড়ায়।পরে ম্যাঞ্জারের নক করে পোস্টটি ডিলিট করার জন্য চাঁদা দাবী করে ছাত্রদলের নেতা বখাটে যুবক আবু হানিফা মোঃ শিবলী।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে লাল কার্ড আইডি ব্যবহারকারী চাঁদা-দাবীর টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারী (সোমবার) রাতে ঈদগাঁও বাস-স্টেশনের এক দোকানে পরিচয় শণাক্ত হয় এবং দোকানদার যুবকটি ছবি তুলে থানা পুলিশ সহ সংবাদকর্মীদের কাছে পাঠান।
পরে ছবি দেখে বখাটে যুবকের পরিচয় শনাক্ত করেন ঈদগাঁও উপজেলার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সহযোগীতাকারী ও ছাত্রদলের নেতা খুটাখালীর বাসিন্দা জিয়া হায়দার।
শনাক্তকারী জিয়া হায়দার প্রতিবেদককে জানান-লাল কার্ড নামক ভূয়া আইডি ব্যবহারকারী-আবু হানিফা মোঃ শিবলী -সে খুটাখালী ইউনিয়নে ৯নং ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকার একেএম সাইফুল্লাহ’র ছেলে।যুবকটি বিএনপির নেতা আবু তাহেরের আপন ভাগিনা।
বখাটে যুবকটি কিছু দিন আগে আমার ছবি দিয়ে মলিন মুখোশ আইডিতে প্রোপাগান্ডা মিথ্যা তথ্য পোস্ট করে।পরে আমাকে লাল কার্ড নামক আইডির ম্যাঞ্জারের থেকে নক করে।ম্যাঞ্জারের লেখার ফাঁকে সে লিখেন,আমাকে ১০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠালে,আমি তোমার এটি ডিলিট করবো।তখন আমি বলেছি,আমি ছাত্র মানুষ এত টাকা দিতে পারবো না।তখন সে বলে,কত দিতে পারবে?আমি বলছি ৫শত টাকা।পরে সে বলেছে,তাহলে ৩হাজার টাকা দাও।তখন আমি বলছি,আমার বিকাশে ৪/৫শত টাকা আছে।বাকী টাকা আম্মু থেকে নিয়ে দিতে হবে।সে বলেছে,আগে সেগুলো দাও।কোথায় দিব?পার্সোনাল নাম্বারে।আমি বলেছি আমার লিমিট শেষ,এজেন্ট নাম্বার দিন।পরে লোকটি বললো তাহলে কালকে দিও।সোমবার রাতে আমাকে সে ঈদগাঁও বাস-স্টেশনের এক দোকানের এজেন্ট নাম্বার দিলে,আমি নাম্বারটি দ্রুত ঈদগাঁও এক পুলিশ অফিসারকে দিয়ে দোকানদারকে ফোন করায়।তখন আমি আমার বিকাশ থেকে ৫শত টাকা সেন্ড করি।সে চাঁদার টাকা তুলতে গেলে দোকানদার তার ছবি তুলে পুলিশ আর এক সংবাদকর্মীর কাছে পাঠায়।পরে ছবিটি আমাকেও দিলেন।তখন ছবি দেখে জানতে পেরেছি,সে শিবলী।
শিবলী তার লাল কার্ড আইডি থেকে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ও এলাকার সম্মানি লোকের মানক্ষুন্ন করেছে।সুতরাং প্রশাসনের কাছে আমি তার উপযুক্ত শাস্তি কামনা করছি।
অভিযুক্ত শিবলী জানান-আমার আইডি আমি ব্যবহার করছি।আমি লাল কার্ড নামক আইডি ব্যবহার করি না,কেন করবো বলে অস্বীকার করে।তাছাড়া আমি কি ঈদগাঁওতে যেতে পারি না।
এবিষয়ে ঈদগাঁও বাস-স্টেশনের দোকানদার ব্যবসায়ী দেলোয়ার জানান-এক যুবক আমার বিকাশ নাম্বারে ২ হাজার টাকা আসবেল অপেক্ষা করছেন। এমতাবস্থায় ঈদগাঁও থানার এক এএসআই আমাকে ফোন করে বলে যে,লাস্ট ৮৪ নাম্বার থেকে টাকা যাবে তোমার বিকাশে।ওই টাকাগুলো যে নিবে,তার একটি ছবি তুলবে,পারলে আটকিয়ে রেখে ফোন করার অনুরোধ করেন।আমি যুবকটিকে বসিয়ে রাখলে,সে তাড়াতাহুড়া করছে।তবুও আমি তাকে বসিয়ে রাখতে চাইলে,তখন যুবকটি প্রশ্রাব করার নাম করে চলে যায়।পরে আমি তোলা ছবিটি পুলিশ,সাংবাদিক ও টাকা পাঠানো ছেলেটাকে দিয়েছি।
এবিষয়ে ঈদগাঁও থানার এএসআই রিমন জানান-ওসি স্যারের নির্দেশে আমি বিকাশের দোকানদারকে ফোন করি।পরে জেনেছি লোকটি ভূয়া আইডি খুলে মানুষকে এভাবে প্রতারনা করে চলে যায়।