শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৮:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুতুবদিয়ায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ৬ শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার পরিচিতি সভা সম্পন্ন ঈদগাঁওতে ফার্নিচার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড -কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ২ শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক লাপাত্তা ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযানে ছিনতাইকারী সহ আটক-৮ জনপ্রিয়তায় শীর্ষে তালেব আস্থার প্রতীক টেলিফোন বলছেন উপজেলাবাসী উখিয়ার লাল পাহাড়ে র‍‍্যাবের অভিযানে আরসা’র প্রধান সহ আটক-২ ২১ বছর পর মায়ের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ অনাথ শিশুকে বুঝিয়ে দিলেন ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামান! খুটাখালীতে বালু উত্তোলনকারী নাম বাদ দিয়ে নিরহ লোকের নামে অপপ্রচার ছোট মহেশখালী রাহাতজান পাড়া জামে মসজিদের মাইক চুরি

এরশাদ-সাগরের মে দিবস অন্য দিবসের মতোই: স্কুল বয়সে তাদের কাঁধে সংসারের বোঝা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১
  • ৩৪৭ বার পঠিত

কাইছারুল ইসলাম(মহেশখালী প্রতিনিধি)।
জীবন যুদ্ধের এক অদম্য যুদ্ধা এরশাদ উল্লাহ।
সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় অল্প বয়সে।
পড়া লেখা ও খেলা ধুলায় যখন বন্ধুরা মেতে থাকে তখনই রেস্তোরার তালা বাসন, গ্লাস ধোয়া ও টেবিল পরিষ্কারে ব্যস্ত থাকে এরশাদ। বাবা থেকে ও নাই। সকাল থেকে যেতে হয় কাজে। যে বয়সে বন্ধুরা ব্যাগ কাঁধে স্কুলে ছুটে। বন্ধুদের সাথে নিয়ে মানুষ হওয়ার গল্প শুনে, সে বয়সে সংসার চালাতে কাজ করেন এরশাদ উল্লাহ (১২)।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হোয়ানকের বড়ছড়া এলাকার চায়ের দোকানে কথা হয় এরশাদের সাথে। অশ্রুসিক্ত ছল ছল চোখে শুনাচ্ছেন তার বিষণ্ণতার কথা।

বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন অনেক আগে, থাকেন কক্সবাজার সদরে। এখন আর খোঁজ নেই না তাদের । স্বপ্ন ছিল বিদ্যালয়ে যাওয়ার, কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস,যেতে হয় কাজে। কক্সবাজার হোয়ানকের বানিয়াকাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর আর বিদ্যালয়ে যাওয়া সম্ভব হয় নাই, কাঁধে এখন সংসারের বোঝা। প্রতিনিয়ত ছোটতে হয় সংসারের খাদ্য যোগাতে।

এরশাদ বলেন, মা এখন কাজ করতে পারেন না। মায়ের অল্প আয়ে সংসার না চলায় তাকে কাজ নিতে হয় চায়ের দোকানে। বাড়িতে মা আর ছোট বোন আছেন। বোনের পড়ালেখার খরচ, মায়ের চিকিৎসা খরচ আর পরিবারের দু’বেলা খাবার জোগাড় করতে সে একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি।
তবে এরশাদ স্বপ্ন দেখেন, তার বোন ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করবে,আলো চড়াবে গ্রামে।

অন্যদিকে ঘামের চিকচিক শরীরে সাগর আসছেন সিমেন্ট ভরা ভ্যানগাড়ি চালিয়ে। বয়স ১৩ বছর, ভ্যানগাড়ি চালালে দু’বেলা খাবার জুড়ে পরিবারের,অন্যথায় না খেয়ে পার করতে হয় বেলা।

শুক্রবার সকালে কথা হয় সাগরের সাথে। ৫ বছর পূর্বে অভাবের তাড়নায় বিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বাবা কাজ করে না, সংসারে সে সহ পাঁচ সদস্য। সবার দায় ভার তার উপরেই।

সাগর বলেন, এখন তেমন কাজ পাই না। পূর্বে ৪০০-৫০০ টাকা পেলে ও, এখন পাই ১৫০-২০০ টাকা। যাতে সংসার চলতে খুব কষ্ট হয়ে যায়। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাই না। মে দিবস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, ‘দিবস দিয়ে কি হবে,গাড়ি না চললে তো ভাত’ খেতে পারি না।

একই চরিত্রের অভিনেতা আইয়ুব (১৬)। চতুর্থ শ্রেণীর পর আর পড়তে পারে নাই। মাকে হারিয়ে পেলেন অল্প বয়সে,বাবা হারিয়ে পেলেন কাজের সক্ষমতা, কাঁধে উঠে সংসারের বোঝা। বর্তমানে ইট ভাঙ্গার কাজ করে । ছোট ভাইকে নিয়ে তাদের ৩ জনের সংসার। আইয়ুবের আয়ে কোনরকম সংসার চলে।

মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে চাকরি করা মিনহাজ নামে একজন বলেন, কোম্পানির প্রকৃত বেতন আমরা পাই না। অনেকে কমিশন নিয়ে নেয়। যেকোন মুহূর্তে ছাঁড়াই হবার ভয় থাকে।
এমন গল্প প্রতিজনের। করোনা এই মহামারীতে কারো আয় নেই।স্বল্প বেতন পেলে ও কোন রকম সংসার চলে। এখনো শ্রমজীবী মানুষের শঙ্কা কাটে নাই। ন্যায্য মূল্য পাইনা তাঁরা। এখনো দাবি নিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন করতে হয়।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস অফিসার্স এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি কলিম উল্লাহ কলিম বলেন, কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কাজ করেন হোটেল-মোটেল এ। মে দিবসে একটাই দাবি, শ্রমিকদের যেন বেতন-বোনাস দেওয়া হয় এবং হোটেল-মোটেলে যেন নিয়োগ পত্র দেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, হোটেল-মোটেল কর্মচারীদের যেন কর্মঘন্টা নির্ধারণ করা হয় এবং তাদেরকে সাপ্তাহিক ছুটি দেওয়া হয়।

শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে এড.হামিদুল হক জানান ” বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এ শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সম্পর্ক, সর্বনিম্ন মজুরীর হার নির্ধারণ, মজুরী পরিশোধ, কার্যকালে দুর্ঘটনাজনিত কারণে শ্রমিকের জখমের জন্য ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শিল্প বিরোধ উত্থাপন ও নিষ্পত্তি, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও চাকুরীর অবস্থা ও পরিবেশ এবং শিক্ষাধীনতা ইত্যাদির কথা থাকলেও মালিকরা তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় উদাসীন ও অনেক ক্ষেত্রে শোষন করে থাকে। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার যদি বদ্ধপরিকর না হয় তাহলে শ্রমিকরা সারা জীবন অবহেলিত থাকবে। তাছাড়া, শ্রমিকদের সংগঠনগুলোর অবস্থান শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় আরও ব্যাপক ভূমিকা রাখতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Bangla Webs